গ্রহাণু থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে NASA মহাকাশে পাঠাচ্ছে তাদের ‘অস্ত্র’, মিশনের নাম DART, খুব শীঘ্রই করা হবে লঞ্চ

সৌরজগতের মধ্যে এখনো পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে সগর্বে রয়েছে পৃথিবী। বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীব থেকে শুরু করে বিশাল আকারের প্রাণীরা পৃথিবীতে বসবাস করে চলেছে বহু যুগ ধরেই। তবে এই প্রাণী জগতের কাছে সব থেকে বড় বিপদ হল পৃথিবীর সাথে কোন গ্রহাণুর ধাক্কা। ডাইনোসরদের বিলুপ্তির মত হয়তো এই ভাবেই কোন একসময় পৃথিবী থেকে প্রাণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর সেজন্যই আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে NASA! 

গ্রহাণু থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে NASA মহাকাশে পাঠাচ্ছে তাদের অস্ত্র

পৃথিবীকে গ্রহাণুর ধাক্কা থেকে বাঁচাতে নতুন এক মহাকাশযান লঞ্চ করতে চলেছে NASA শীঘ্রই। এই মিশনের নাম তারা দিয়েছে DART। যা সম্পূর্ণ অর্থ হল ডাবল এস্টরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট (Double Asteroid Redirection Test)। পৃথিবীর দিকে কোন গ্রহাণু ধেয়ে এলে এই মহাকাশযানই অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে তখন আমাদের। সেই গ্রহাণুর সাথে ধাক্কা খাইয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে, এই মহাকাশযান ব্যবহার করেই এমন পরিকল্পনা নিয়েছে নাসার প্লানেটারি ডিফেন্স কোঅর্ডিনেশন অফিস। 

পৃথিবীর দিকে কোন বিশাল আকার গ্রহাণু বা এস্টরয়েড গেলে এই ধরনের প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেই তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে অথবা তার গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। আর তারই পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করতে চলেছে SpaceX। এই উৎক্ষেপণ করা হবে SpaceX Falcon 9 রকেট এর মাধ্যমে। 

জেনে নিন : iPhone ইউজার? আপনার মোটরবাইক থেকে ক্ষতি হতে পারে আপনার প্রিয় ফোনটির, এখনই সাবধান হয়ে যান, বিজ্ঞপ্তি জারি করল Apple

আর ইতিমধ্যেই এই পরীক্ষা করার জন্য গ্রহাণু কেও চিহ্নিত করে ফেলেছেন NASA। তবে এটা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে না। এই গ্রহাণুর নাম Didymos।জানানো হচ্ছে এই Didymos এর প্রাইমারি বডি 780 মিটারের। আর এর সেকেন্ডারি বডি 160 মিটারের। এই সেকেন্ডারী বডিকেই পরীক্ষা করার টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছেন NASA। 

আর সেই জন্যই এই গ্রহনুকে বহুদিন ধরেই পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছে তারা। নাসা থেকে জানানো হয়েছে এই স্পেইসক্রাফট লঞ্চ লঞ্চ উইন্ডো স্টার্ট হচ্ছে এই বছরেরই নভেম্বরের 24 তারিখ থেকে। লঞ্চের পর 2022 সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে Didymos-এর সাথে এর সংঘর্ষ হবে। সেই মুহূর্তে Didymos থাকবে পৃথিবী থেকে 11 মিলিয়ন কিলোমিটার এর মধ্যেই।  

গ্রহাণু থেকে পৃথিবী কে বাঁচাতে নাসার এই নতুন প্রচেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে হঠাৎ করে কোন গ্রহাণুর আগমন ঘটলেও এই ভাবে সে গুলোকে আটকানো যাবে। রক্ষা করা যাবে নীল গ্রহ পৃথিবীকে। নাসার এই মিশন কি সফল হবে? কি মনে করছেন আপনি? অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না।